Popular Posts

Follow Me On Instagram

Copyright © Kinsley Theme. Designed by OddThemes

সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট ট্রেন ভ্রমণ

 




অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার কৌতূহল মানুষের চিরন্তন। আর এ কৌতূহল পূরণের উৎকৃষ্টতা পন্থা হচ্ছে ভ্রমন । 

আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। ভ্রমন প্রিয় মানুষদের কাছে ভ্রমন করা খুবই আনন্দদায়ক। শুধুভ্রমন প্রিয় নয় প্রায় সব মানুষের কাছে ভ্রমন আনন্দদায়ক। কাজের ব্যস্তটার মাঝে একটু ঘুরাঘুরি করতে পারলে মনটা ভালো থাকে। আর মন ভালো থাকা মানে পুরো পৃথিবীকে ভালো লাগা। তাই আমাদের এবারের গন্তব্য হলো সিলেট । সিলেট ভ্রমন কে আমারা দুই পর্বে সাজিয়েছি। এবার আমাদের যাত্রা চট্টগ্রাম থেকে। এই পর্বে আমারা শেয়ার করবো চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে সিলেট পর্যন্ত ট্রেন ভ্রমন। ২য় পর্বে থাকবে হযরত শাহজালাল ( র ) ও শাহপরান ( র ) -এর মাজার জিয়ারত । 


আমরা যে ট্রেন দিয়ে সিলেটে যাবো সেটি হলো পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি বাংলাদেশের দেলোয়ার অধীনে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেনটি ১৯৮৬ সালে থেকে নিয়মিত এই রুটে চলাচল করছে। ট্রেনটি প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে সকাল 9 টায় যাত্রা শুরু করে। এবং সন্ধ্যা ছয়টায় সিলেটে পৌঁছায়। কিন্তু আজ ট্রেনটি যাত্রা শুরু করলো ৯.৪৫ মিনিটে। অপরদিকে ট্রেনটি সিলেট থেকে সকাল দশটায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার পথে সোমবার বন্ধ থাকে। অপরদিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে শনিবার বন্ধ থাকে।
নির্দিষ্ট আসনে বসে পরলাম । বাড়তি যাত্রীর বিরক্তিকর ভিড় নেই । বেশ খোলামেলা গাড়ি । গাড়ির একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত যাতায়াত করা যায় । গাড়িতে খাবার ব্যবস্থা আছে । কামরার ভেতর জানালার পাশের সিটটি আমার । কাজেই বাইরের দৃশ্য সহজেই দেখতে পেলাম । সকালের সোনালি রোদ দু পাশে ঝলমল করছে । গাড়ি ছুটছে অনবরত ঝিক ঝাক শব্দ করে । আমাদের কামরার বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে ব্যস্ত । আমি বসেছিলাম গাড়ির ডান পাশে । চমৎকার আলো এসে পড়ছে । সকালে গ্রামের জীবন হয়ে উঠেছে কর্মচঞ্চল । বিচিত্র মানুষের কর্মপ্রবাহ চকিতের জন্যে চোখে পড়ছে । আবার মুহূর্তে যাচ্ছে পেছনে ছুটে । ভালো করে দেখার আগেই কত মধুর দৃশ্য হারিয়ে গেল । তবু বেশ ভালো লাগছে । 

১২.৫ মিনিটে আখাউড়া জংশনে এসে পৌছলাম। এখানে এসে ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তন করা হয় এবং সেখান থেকে সিলেটের লাইনে যাওয়া যায় । আখাউড়া পৌছে আমরা হালকা নাস্তা করলাম । আমাদের ট্রেনটি আবার ছুটে চলল । জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলাম । বাইরের গাছগাছড়া সব কিছুই দ্রুত উল্টো দিকে ছুটে চলছে । তাই মনে হল জগতের কিছুই স্থির নেই, সব কিছুই চলমান । 

আমরা বিকাল ৫টাই  শ্রীমঙ্গল স্টেশনে। চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা যেতে পারে। মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টির মত চা বাগান রয়েছে। ৪৫০ বর্গ কির্গ লোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য দের্য খতে প্রতিদিন অনেক পর্যটকর্য আসেন। মাইলের পর মাইল পর্যন্তর্য চা বাগান দেখে পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বলে মনে হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত মানের চা শ্রীমঙ্গলেই উৎপন্ন হয়ে। ট্রেনটি বনের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলছে । বিরামহীন গতি । যেন কেউ তাকে বাঁধা দিচ্ছে না । ট্রেনের মধ্যে আমরা চা পান করলাম । আমাদের পথ ধরে চলতে লাগল । রাস্তার দু পাশেই চা বাগান । আমার কাছে বাগানগুলোকে মনে হচ্ছে পাহাড় হতে সিঁড়ি কাটা হয়েছে । পথে পথে চা-বাগানের ঢেউ দেওয়া দৃশ্য আর আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু রাস্তা আমাদের খুবই আনন্দিত ও বিমোহিত করছে। এই অনুভূতি প্রকাশ করা খুবই কঠিন। বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ, তা বইয়ের পাতায় বেশ পড়েছি, কিন্তু আজ নিজের চোখে দেখে মুগ্ধ হচ্ছি। যতই পথ চলছে, ততই প্রকৃতিপ্রেমে পড়ে যাচ্ছি। জীবনের পুরো সময় এই প্রকৃতির মধ্যে কাটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করছে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়।

আমরা সন্ধ্যা ০৭ টায় সিলেট পৌছলাম । গাড়ি আস্তে আস্তে স্টেশনে থামল । এখানেই ট্রেন ভ্রমণের সমাপ্তি । দেখতে দেখতে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি সকলে ভালো থাকবেন এই আশা করি খুব শীঘ্রই সিলেট ভ্রমনের ২য় পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে এসে হাজির হবো।

মন্তব্যসমূহ